ত্রাণ নিয়ে দলবাজি নয়, সর্বদল বৈঠকে এমনই বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ আজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে সর্বদল বৈঠক শুরু হয়েছিল নবান্নে।করোনা ও আম্পানের ফলে বিপর্যস্ত জনজীবন।এই সমস্যার মোকাবিলা কিভাবে হবে, তা নিয়েই চলে আলোচনা। সর্বদল বৈঠকের আগের দিন বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে যে রকম মন্তব্য করা হয়েছিল, তাতে বৈঠকে তোপের মুখে পড়তে পারে সরকার, এমনই ভাবা গিয়েছিল।
সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিকেল ৩ টে থেকে নবান্নে সর্বদল বৈঠক শুরু হয়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে যোগ দিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুব্রত বক্সী এবং মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়।বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে বৈঠকে যোগ দিতে অনুরোধ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। তাঁর সঙ্গে গিয়েছিলেন বিধানসভায় বিজেপির পরিষদীয় নেতা মনোজ টিগ্গা ও রাজ্যে দলের সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার।
কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য এবং আমতার বিধায়ক অসিত মিত্র।
সিপিএমের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র এবং বিধানসভার বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী।
লকডাউনের জেরে তৈরি হওয়া আর্থিক সঙ্কট এবং ঘূর্ণিঝড়ে দুর্গত এলাকার জন্য যে ত্রাণের বন্দোবস্ত হয়েছিল, তা বণ্টনে প্রবল অনিয়ম হয়েছে বলে সব কটি বিরোধী দলের অভিযোগ।
রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের কথায়, ‘মুখ্যমন্ত্রীকে এর আগে দু-বার চিঠি দিয়েছি। সেই চিঠিতে যা লিখেছিলাম, তার উপরেই কথা বলব’।লকডাউনের মধ্যে রেশনে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।প্রায় একই সুর বাম ও কংগ্রেসের। সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, কেন্দ্র যে টাকা দেয়নি, সেই কথা অবশ্যই থাকবে।তবে ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতি সাঙ্ঘাতিক মাত্রায় পৌঁছেছে। কোনও দিন যে পান চাষ করেনি, সে পান বরোজের জন্য ক্ষতিপূরণ নিয়ে চলে যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথামতো পুলিশকে জানাতে গেলে থানা অনেকক্ষেত্রেই অভিযোগ নিচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রী যখন ডেকেছেন, এগুলোও তাঁর জানা দরকার।আবার প্রদীপ ভট্টাচার্যের কথায়, বাড়ির ক্ষতিপূরণের ফর্ম এমন ভাবে করা হয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষকে পঞ্চায়েত বা স্থানীয় স্তরে কারও উপরে নির্ভর করতে হচ্ছে।সেই সুযোগে অনিয়মও হচ্ছে।
এখন রাজ্যের পরিস্থিতি যে রকম, তাতে সব রকম ভাবে সরকারের দিকে সাহায্যের হাত বাড়নোই উচিত বলে তৃণমূল নেতৃত্বের অভিমত।ত্রাণ নিয়ে দলবাজি নয়, সর্বদল বৈঠকে এমনই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রীর। পাশাপাশি সুন্দরবনের বাঁধ নিয়ে স্থায়ী পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

